আজ থেকে 18 বছর আগে স্টিভ জবস পৃথিবীর সামনে এমন একটি মোবাইল ফোন নিয়ে আসেন যা পরবর্তী সময় মোবাইল ফোন জগতে সবচাইতে বড় রাজত্ব তৈরি করে। হ্যাঁ, আমি কথা বলছি আইফোন সম্পর্কে। আজকের দিনে একটা মানুষের অন্যান্য স্বপ্নগুলোর মধ্যে একটা স্বপ্ন থাকে আইফোন কেনার। আর কিছু কিছু মানুষের কাছে আইফোন শুধুমাত্র একটি ফোন নয়, এটি হলো একটি ইমোশনের বিষয়।
কিন্তু কিভাবে শুরু হয়েছিল এই আইফোনের যাত্রা? সেটাই জানার চেষ্টা করবো
Want to Buy ?
Click Here
2007 সালের 9ই জানুয়ারি, ইতিহাসের অন্যতম লিজেন্ড স্টিভ জবস ক্যালিফোর্নিয়াতে তার প্রথম আইফোন ফার্স্ট জেনারেশন লঞ্চ করেন। যেখানে তার ইন্ট্রোডাকশনটা ছিল চিরস্মরণীয়। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রেভলিউশনারি মোবাইল ফোন তৈরি করেছি যেটাকে আপনারা শুধুমাত্র হাতের স্পর্শের মাধ্যমেই চালাতে পারবেন। এটাকে চালানোর জন্য আপনাদের কোন প্রকার বাটন বা স্টাইলাস প্রয়োজন হবে না।”
এরপর 29শে জুন 2007 সালে প্রথম আইফোন লঞ্চ করা হয় এবং এর দাম রাখা হয় 499 ডলার, যেটা তখনকার প্রাইস হিসেবে অনেক বেশি ছিল। এই ফোনের ডিসপ্লে ছিল 3.5 ইঞ্চির, 4GB, 8GB এবং 16GB স্টোরেজ সহ। 128MB RAM দেওয়া হয়েছিল এই মোবাইলটির সাথে। 2G হওয়ার কারণে এই মোবাইলের ইন্টারনেট স্পিড অনেক বেশি স্লো ছিল। এই ফোনটিতে সামনের ক্যামেরা ছিল না এবং ভিডিও রেকর্ড করার অপশনও দেওয়া হয়নি, অর্থাৎ এই ফোনটি দিয়ে শুধুমাত্র ছবি তোলা যেত।
এছাড়াও, এই মোবাইলটি শুধুমাত্র আমেরিকা ছাড়া অন্য কোন দেশে বিক্রি হয়নি, কিন্তু তবুও এই ফোনের 60 লক্ষ পিস বিক্রি হয়।
এর এক বছর পর, 2008 সালের 11ই জুলাই, iPhone 3G লঞ্চ করা হয়, যেটার দাম প্রথম iPhone-এর তুলনায় অনেক বেশি কম রাখা হয়েছিল। এই ফোনের দাম রাখা হয় 199 ডলার। iPhone 3G-তে অবভিয়াসলি 3G টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছিল, যার কারণে এই ফোনের ইন্টারনেট স্পিড ফার্স্ট iPhone থেকে তিন থেকে চার গুণ বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়াও এই ফোনটিতে GPS যুক্ত করা হয়, যেন আগের থেকে আরো বেশি একুরেট লোকেশন দেখা যায়।
এরপর 2009 সালে, iPhone S আপডেটের সাথে তার iPhone 3GS মডেলটি লঞ্চ করেন। এই ফোনে কাজগুলোকে
অনেক বেশি ফাস্ট করার দিকে নজর দেওয়া হয়েছিল। এই iPhone-এ আপনি যদি কোন অ্যাপ ওপেন করেন, তাহলে এটা তার আগের iPhone থেকে দুই থেকে তিন গুণ বেশি তাড়াতাড়ি ওপেন হবে। এছাড়াও ওয়েবপেজ লোডিং, টাচ, এগুলোর ক্ষেত্রে আরো বেশি স্পিড পাওয়া যেত।
এছাড়াও, iPhone 3GS-এ ক্যামেরা আপডেট নিয়ে আসা হয়, ফলে এই ফোনে অবজেক্টগুলোকে আরো ভালোভাবে ফোকাস করা যেত এবং ক্লিয়ার ও শার্প ছবি তোলা যেত। এই ফোনের সবচাইতে বড় দিক ছিল, এই ফোনটা দিয়ে 480p-তে ভিডিও রেকর্ড করা যেত। এত সুবিধা দেওয়ার কারণে iPhone-এর এই মডেলটি সাড়ে তিন কোটি পিস বিক্রি হয়।
এরপর 2010 সালে, iPhone সবচেয়ে বড় আপডেটের সাথে iPhone 4 লঞ্চ করে। iPhone-এর এই মডেলটিতে ডিজাইন পুরোপুরি পরিবর্তন করা হয়। এর বডি তৈরি করা হয়েছিল স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে এবং পিছনে একটি রেয়ার গ্লাস প্যানেলও যুক্ত করা হয়। এই ফোনের ডিসপ্লেতে আরো বেশি পিক্সেল যুক্ত করা হয়, ফলে যেকোনো অ্যাপ বা কনটেন্ট আগের থেকে অনেক বেশি ক্লিয়ার দেখা যেত।
এছাড়াও, এই ফোনটিতে প্রথমবারের মতো ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং LED ফ্ল্যাশলাইট যুক্ত করা হয়। Apple প্রথমবারের মতো তাদের নিজস্ব চিপ ব্যবহার করে, যেটা ছিল Apple-এর A4 চিপ। iPhone-এর এই মডেলটি পাঁচ কোটিরও বেশি পিস বিক্রি হয়।
এরপর 2011 সালে, iPhone 4S লঞ্চ করা হয়। এই মডেলটিতে আমরা পরিচিত হই Siri ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের সাথে। এটি হলো একটি ভার্চুয়াল AI অ্যাসিস্ট্যান্ট, যেখানে আপনি প্রশ্ন করলে সেটি বুঝে তার উত্তর দিত।
এছাড়াও, এই ফোনটিতে 8 মেগাপিক্সেল ক্যামেরার সাথে 1080p-তে ভিডিও রেকর্ড করার সুবিধা ছিল। এছাড়াও, Apple তাদের এই মডেলটিতে A5 চিপ ব্যবহার করে। যদিও বড় আপডেট তেমন একটা ছিল না, তবুও এই মডেলটি 6 কোটি পিস বিক্রি হয়।
আপনার আরও কিছু সংযোজন বা পরিবর্তন দরকার হলে জানান! 😊




