জীবনের কিছু সম্পর্ক আমাদের গড়ে তোলে, আবার কিছু সম্পর্ক আমাদের ভেঙে দেয়। আমি প্রায় ১০ বছর ধরে এমন একটি সম্পর্কের মধ্যে ছিলাম, যেখানে আমি ধীরে ধীরে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।
প্রথম দিকে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। ভালোবাসা ছিল, বোঝাপড়া ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে একটা অদ্ভুত পরিবর্তন শুরু হয়—যা আমি তখন ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি। পরে বুঝলাম, এটা শুধু আচরণগত সমস্যা না, এটা গভীর একটা বিষয়—নার্সিসিজম।
নার্সিসিস্টিক ব্যক্তিত্বের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো—
👉 তারা কখনো নিজেদের ভুল স্বীকার করে না
👉 সবসময় অন্যকে দোষ দেয়
👉 নিজের একটা আলাদা দুনিয়ায় থাকে, যেখানে তারাই ঠিক
আমি বারবার চেষ্টা করেছি বোঝাতে, বুঝতে, সম্পর্কটা ঠিক রাখতে। ঠান্ডা মাথায় কথা বলেছি, মানিয়ে নিয়েছি, নিজের ভুল না থাকলেও ক্ষমা চেয়েছি—শুধু সংসারটা টিকিয়ে রাখার জন্য।
কিন্তু একটা সময় বুঝলাম—
সবকিছু একা টেনে নেওয়া যায় না।
সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটা ছিল আমার সন্তান।
ও ধীরে ধীরে এই টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে যাচ্ছিল।
ওর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
ওর স্বাভাবিক জীবনটাই যেন থেমে গিয়েছিল।
আমি দেখলাম—
একটা সম্পর্ক বাঁচাতে গিয়ে আমি আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেলছি।
ওদিকে পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে,
আমার সন্তানকে আমার কাছ থেকে আলাদা করে রাখতে চাওয়া হচ্ছিল,
কিন্তু তার কোনো সঠিক যত্ন বা শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছিল না।
আমি তখন একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নেই।
👉 আমি বেরিয়ে আসি।
খালি হাতে, কিন্তু ভেতরে একটা দৃঢ়তা নিয়ে—
আমাকে এখন নিজের জন্য না, আমার সন্তানের জন্য বাঁচতে হবে।
অনেকে বলেছে—“ঠান্ডা মাথায় কথা বলো”
কিন্তু সব পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় সামলানো যায় না।
কিছু পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসাটাই সবচেয়ে বড় সমাধান।
আজ আমি জানি—
সব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না,
আর সব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা উচিতও না।
আমি এখন আমার সন্তানকে নিয়ে নতুনভাবে শুরু করছি।
ওর ভবিষ্যৎ, ওর শিক্ষা, ওর মানসিক শান্তি—এইগুলোই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য।
শেষে একটা কথা বলতে চাই—
👉 যদি কোনো সম্পর্ক আপনাকে প্রতিনিয়ত ছোট করে
👉 যদি সেখানে সম্মান না থাকে
👉 যদি সেটা আপনার সন্তানের ক্ষতি করে
তাহলে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা ভুল না।
কখনো কখনো “ছাড়তে পারা”টাই সবচেয়ে বড় সাহস।
