বাবা খুব বেশি কথা বলতেন না। কিন্তু তাঁর কাজই ছিল তাঁর ভাষা। ভোরে উঠতেন, ক্ষেতের দিকে তাকাতেন, সবকিছু ঠিক আছে কি না দেখতেন। তখন বুঝতাম না, আজ বুঝি—ওটাই ছিল দায়িত্বের শিক্ষা।
আজ বাবা নেই। কিন্তু গ্রামে গেলেই মনে হয়, তিনি এখনো আছেন। সেই পুরোনো উঠোন, সেই গাছ, সেই পথ—সবকিছুতে বাবার ছায়া দেখি।
আমি একমাত্র ছেলে। এই কথাটার ওজন এখন অনেক বেশি। গ্রামটা, কবরটা, স্মৃতিগুলো—সবকিছুর দায়িত্ব যেন নীরবে আমার কাঁধে এসে পড়েছে। শহরের ব্যস্ততায় থেকেও মনটা বারবার গ্রামে ফিরে যায়।
আমার বোনেরা দূরে থাকে। তারা এই নীরবতাটা অনুভব করে না। কিন্তু আমি জানি, একদিন এই গ্রামই আমার পরিচয় হয়ে থাকবে।
গ্রাম, বাবা আর এই দায়িত্ব— এগুলো থেকে পালানো যায় না। এগুলোই আমাকে মানুষ করে, শক্ত করে।
